in ,

একঝাঁক ‘রক্তযোদ্ধা’র গল্প

এক দশক আগেও রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলেই শঙ্কা জেঁকে বসতো স্বজনদের মনে, কোথায় মিলবে রক্ত। উপায়ান্তর না দেখে অনেকেই ধরনা দিতেন পেশাদার রক্তাদাতাদের কাছে। টাকা দিয়ে কেনা রক্ত রোগীর শরীরে দিয়ে সাময়িক প্রয়োজন মিটলেও ভর করতো আরেক দুশ্চিন্তা। রোগ সারাতে আরেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে না তো? আশার কথা, রক্ত নিয়ে দুশ্চিন্তার সময় এখন অতীত। রক্তদাতা একদল তরুণ সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকেন একটি আহ্বানের, ‘একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন।’ খবর পেলেই ছুট। রোগীর ঠিকানা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে। রক্ত দিয়ে ফেরেন হাসিমুখে।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা শহরের একদল তরুণের এটি এখন রুটিন কাজ। স্বেচ্ছায় রক্তদাতারা মানুষের পাশে থাকতে গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। রক্তদানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁরা ছুটে বেড়ান মানুষের জীবন বাঁচাতে। এমনও হয়েছে রোগীর নামধাম জানেন না, রক্ত দিয়ে চলে এসেছেন। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় এ রকমই রক্তদাতাদের একটি সংগঠন-ব্লাড ডোনার্স ফ্যামিলি।

ব্লাড ডোনার্স ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল ইসলাম আল-আমিন শোনান তাঁদের এক হওয়ার পটভূমি।
গতবছর দেশব্যাপী করোনার প্রভাব যখন বেড়ে যায় লকডাউন এ প্রায় সকল কিছু বন্ধ বিশেষ করে হাসপাতালের রোগীদের জন্য রক্ত পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে গিয়েছিলো ঠিক সেই সময়েই মনে হলো বিনামূল্যে রক্তদান নিয়ে কিছু একটা করার, যদিও তার অনেক আগে থেকেই রক্ত দান করতাম কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ছিল না। এই চিন্তা ধারা থেকেই গত বছর লকডাউন এর সময় ধনবাড়ীর কিছু তরুনদের নিয়ে “ব্লাড ডোনার্স ফ্যামিলি ধনবাড়ী টাঙ্গাইল” নামে বিনামূল্যে রক্তদান কারী একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি।

দেশব্যাপী কোভিটের প্রাদুর্ভাবের সময় রক্তদাতাদের নিয়ে আমরা ছুটে বেরিয়েছি উপজেলা জেলা এবং বিভাগীয় শহরে। ধনবাড়ী,সরিষাবাড়ী,জামালপুর,মধুপুর,গোপালপুর,টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ এবং রাজধানী ঢাকাতেও। বিগত এক বছরে এখন পর্যন্ত আমাদের রক্তদানের সংখ্যা ২৭০। সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে আমাদের বিস্তৃতি বেড়েই চলছে। মোটামুটি আমাদের সদস্য সংখ্যা ৫০০ জনের উপরে এরা সকলেই কোন না কোন ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।‌

থ্যালাসেমিয়া,ক্যান্সার রোগী, টিউমার অপারেশন রক্তশূন্যতা বিভিন্ন জটিল অপারেশন রুগীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিয়মিত রক্তদান করে যাচ্ছে ব্লাড ডোনার্স ফ্যামিলি।সকাল বিকাল দুপুর কিংবা গভীর রাতেও রক্তদাতা নিয়ে ছুটে গিয়েছি হাসপাতালে।রমজানের শুরুতে রাত্রি দশটার সময় ময়মনসিং মেডিকেল কলেজে রক্তদান নিয়ে গিয়েছিলাম। সামনের দিনগুলোতেও এভাবে কাজ চালিয়ে যাবো ইনশাল্লাহ।গত ৮ মে আমি নিজেও মধুপুর এ রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত এক বাবার জন্য রোজা রেখে রক্ত দান করে এসেছি।রক্ত দেওয়ার পর রোগীর স্বজনদের মুখে যে হাসি আমরা দেখতে পাই, তাতে মনটা ভরে যায়।


রক্ত পেতে…
এই সংগঠনের মাধ্যমে রক্ত পেতে হলে সংগঠনের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিতে হবে। এই পোস্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংগঠনের অ্যাডমিনরা কিছু তথ্য চেয়ে রক্তের সন্ধানকারীর কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করবেন। অনলাইনে অভ্যস্ত নন এমন ব্যক্তিদের সেবা দেওয়া হয় মুঠোফোনের মাধ্যমে (০১৮২৮৬৪৫৩৪০, ০১৯৬৭২৯০৬৬৯,ও ০১৫৩১৭৩১৩৭৭)।

বিজিবির চেকপোস্ট উপেক্ষা করেই ঘরমুখো মানুষের ঢল

আজ বিশ্ব মা দিবস