in ,

করোনাকালে ধনবাড়ীতে স্কুলছাত্রদের অনলাইন গেমের আসর

মোঃ ফরিদ হোসেন

গত বছর ১৭ মার্চ দেশে প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা আসে। সরকার বেশ কয়েক দফায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে বিবেচনা করলেও দেশে মহামারি পরিস্থিতির কারণে সেটা আর সম্ভব হয়নি। বরং দফায় দফায় বন্ধ থাকার মেয়াদ বেড়েছে।

করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে লম্বা সময়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিল ছেড়ে স্মার্টফোনে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ খেলায় আসক্ত হচ্ছেন। অভিভাবকরা বাঁধা দিলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না। ধনবাড়ীতে বিভিন্ন গ্রামের বাঁশঝাড়, দোকান কিংবা খোলা মাঠে বসছে অনলাইন গেমের আসর।
আসক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এমন অবস্থায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকেরা। এ দিকে অভিভাবকসহ পরিবারের সদস্যদের সচেতনতাই পারে কিশোরদের মোবাইল গেমিং আসক্তি থেকে মুক্তি দিতে, বলছেন সচেতন মহল।

ধনবাড়ীতে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এলাকার মোড়ে, দোকানের সামনে, খেলার মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে খুব দ্রুত ইন্টারনেট ফাইটিং গেম ফ্রি ফায়ার এবং পাবজি গেমসে মারাত্মকভাবে ঝুঁকছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। পাড়া-মহল্লায় প্রতিনিয়ত চোখে পড়ছে উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীদের মোবাইল নিয়ে ফ্রি ফায়ার, পাবজি গেম খেলার আসর। গেম খেলার সময় অবিরত তাদের মুখ থেকে শুনা যাচ্ছে বোম মার! বোম মার! গুলি কর! লুকা, পালা, রিভাইব দে, হিল কর, স্মোক মার! এ ছাড়াও নানা ধরনের নতুন নতুন শব্দ। দিনের বেশির ভাগ সময় পাড়ার মোড়ে, খোলা মাঠে, বাগানের মধ্যে টুল, পাটি পেতে আসর জমিয়ে উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীদের আড্ডা ও অনলাইন গেম খেলার এ দৃশ্য এখন চোখে পড়ার মতো।

এসব গেম খেলতে প্রয়োজন হয় পর্যাপ্ত ডেটার। ডেটা প্যাক কিনতে অনেকে মিথ্যা বলে, বাজারের টাকা মেরে বা না খেয়ে ডেটা প্যাক কিনে গেম খেলায় মগ্ন থাকে। কেউ কেউ আবার মোটা অঙ্কের টাকায় এসব গেমিং আইডি কেনা বেচা করে থাকে। মস্তিষ্কজুড়ে শুধুই গেমের প্রতি আসক্তি জন্মায়। ফলে ব্যক্তিগত জীবন বাধাগ্রস্ত হয়। যেকোনো কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়। পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ হ্রাস পায় এবং নানা ধরনের পারিবারিক সমস্যা দেখা দেয়। আর এসব সমস্যার মূল কারণ এখন অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি।

মোবাইল বা ভিডিও গেমে আসক্তিকে মনঃস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মাদকাসক্তির মতো ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্ত থাকা বা গেম খেলাও আসক্তি। এটা আচরণগত আসক্তি। কেবল সচেতনতাই পারে এই আসক্তি থেকে মুক্ত করতে। এসব মোবাইল গেমে আসক্ত কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে মা-বাবা চরম সঙ্কটে আছেন। ধনবাড়ীসহ পুরো দেশের অভিভাবকরাই আজ সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন।
পরিবারের সদস্যদের সচেতনতাই পারে কিশোরদের মোবাইল গেমিং আসক্তি থেকে মুক্তি দিতে।

লকডাউন বেড়েছে, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার গাড়ি চলবে

উৎপাদন ভাল হওয়ায় করোনাকালেও খাদ্যসংকট হয়নি: কৃষিমন্ত্রী