in , ,

চাকরির প্রলোভনে তরুণীদের নিয়ে…

চট্টগ্রামে ভয়ঙ্কর এক চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। চক্রটি নারীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। এরপর ঘরে আটকে রেখে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। আবার এদের দিয়েই বিভিন্ন মানুষের সাথে মোবাইলে প্রেমের অভিনয় করান। তারপর বাসায় ডেটিংয়ে এনে অশ্লীল ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে সবকিছু হাতিয়ে নেন।

সোমবার (১৭ মে) রাতে নগরীর আগ্রাবাদ মোগলটুলি কাটা বটগাছ মোড়ের জাফর সওদাগরের বিল্ডিং থেকে এই চক্রের মূল হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ডবলমুড়িং থানার পুলিশ। এসময় সেখান থেকে ভুক্তভোগী দুই তরুণীকেও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আক্তার হোসেন (৬৩), আবু হোসেন টিপু (২৯), মো. মজিবুল বশর রাজু (২০), মো. আলমগীর হোসেন আলম (৩৫), মো. ইকবাল হোসেন জুয়েল (৩১), মো. বেলাল খান (৩১)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টিপু সাহা নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ঈদের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৫ মে রাতে আটক আক্তার হোসেন তাকে ওই ফ্ল্যাটে কথা বলার নাম দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে আক্তারসহ আবু হোসেন, মজিবুল বশর রাজু, আলমগীর হোসেন আলম টিপুর ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ও যাবতীয় জিনিপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
সেই সূত্রে সত্যতা খুঁজতে জানা যায়, বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের এখানে বেঁধে রেখে পতিতাবৃত্তি করাচ্ছেন একটি চক্র।
জানা যায়, এই চক্রের আকাশ ও শুক্কুর অসহায়-গরিব মেয়েদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে। পরে চক্রের হোতা আক্তার হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেয়। আক্তার তাদের জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। এছাড়া টোপ দিয়ে বিভিন্ন বয়সীদের এখানে এনে এসব মেয়েদের সাথে জোরপূর্বক অশ্লীল ছবি উঠাতো। পরে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা নিত। আর যারা একটু নিম্নবিত্ত তাদের মোবাইল, মানিব্যাগ রেখে দিত।
পুলিশ জানায়, প্রতারক এসব কিছু দেখভাল করত স্থানীয় আলম ও নোয়াখালীর রাজু। আর তাদের

এসবে ‘মাসলম্যান’ হিসেবে কাজ করত জুয়েল, বেলাল ও টিপু। এরা সবাই স্থানীয় মোগলটুলি এলাকার বাসিন্দা। এখানে এসবের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে তাদের ‘শায়েস্তা’ করত জুয়েল। এজন্য এখানে তাদের জন্য আলাদা ‘অতিথিশালা’ও ছিল। সেখানে তাদের মাদকের আসরও বসত।
এই বিষয়ে ডবলমুড়িং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন মানবজমিনকে বলেন, গোপন সঙ্গে সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এক ভয়ংকর প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে। তারা গরিব অসহায় তরুণীদের চাকরির প্রলোভনে এনে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি করাতো। আর বিভিন্ন বয়সী মানুষকে প্রেমের প্রলোভনে এনে অশ্লীল ছবি উঠিয়ে সবকিছু হাতিয়ে নিতো। এদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত আক্তারের বিরুদ্ধে ৩ টি, রাজুর বিরুদ্ধে ৪ টি, টিপুর বিরুদ্ধে ৫ টি, আলমের বিরুদ্ধে ৩ টি, জুয়েলের বিরুদ্ধে ২ টি, বেলালের বিরুদ্ধে ৩ টি, শুক্কুরের বিরুদ্ধে ৪ টি মামলা রয়েছে।

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৫২৯ প্রাণহানি

সাংবাদিক রোজিনাকে গ্রেফতারে জাতিসংঘের উদ্বেগ