in ,

জাতিসংঘ তদন্ত করতে চাইলে বাংলাদেশের আপত্তি নেই

আল জাজিরার রিপোর্ট সম্পর্কে জাতিসংঘ যদি তদন্ত করতে চায় তাহলে বাংলাদেশের কোন আপত্তি নেই। বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিসটারস ম্যান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রচারের অভিযোগে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল–জাজিরার বিরুদ্ধে মামলার কথাও ভাবছে সরকার। ভুল তথ্যে ভরা প্রতিবেদনের ফলে আল জাজিরা তাদের গ্রহণযোগ্যও হারিয়েছে।

মোমেন বলেন, ‘পাবলিক বুঝেছে যে এটা মিথ্যা তথ্য। সেটা আমরা দেখব। যেখানে তথ্যগত ভুল আছে, সেগুলো আমরা তুলে ধরব। আর আমরা মামলা করব।’

আল জাজিরায় প্রচারিত প্রতিবেদনের সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই যে আল–জাজিরায় যেটা বের হয়েছে, আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিনি। এখন এসএসএফ গার্ড দেয়।
ওনার ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোনো দিন কোনো বডিগার্ড ছিল না। ওনার বডিগার্ড ওনারই সব নেতা-কর্মী। মায়া ভাই, সাবের হোসেন চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, আমু ভাই, এরাই বডিগার্ড। কোনো দিন আমরা দেখিনি পয়সা দিয়ে বডিগার্ড রাখতে। ওখানে লিখেছে ওনার দুই বডিগার্ড!

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার চারপাশে উপস্থিত লোকজনকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এখন ধরেন আমার পেছনে অনেকেই দাঁড়িয়েছেন। আমরা তাঁদের সবাইকে চিনি না। নেত্রী যখন বক্তৃতা দেন, তখন পেছনে অনেকেই দাঁড়ান। আমরা গণতান্ত্রিক দেশ। আমিও যখন বক্তৃতা দিই, আমার পেছনেও অনেকেই দাঁড়ান। আমি তার খুব কম লোককেই চিনি। কিন্তু ওখানে একজনের ছবি দিয়ে বলছে কী, ওটা ওনার বডিগার্ড। এ রকমের মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওরা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। আল– জাজিরা এ ধরনের বানোয়াট, টেকনিক্যালি জোড়াতালি দিয়ে যা করেছে, তাতে বাংলাদেশে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।’

উল্লেখ্য, আল জাজিরা ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পয়লা ফেব্রুয়ারি তাদের চ্যানেলে প্রচার করে। পরে তাদের প্রিন্ট সংস্করণেরও এটি প্রকাশিত হয়। রিপোর্টটি নিয়ে ইতিমধ্যেই সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে এবং বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে আল– জাজিরার প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। আইএসপিআরের তরফে বলা হয়েছে, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা এ প্রতিবেদন কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের দেশকে অস্থিতিশীল করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অপপ্রয়াস মাত্র।

অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া অপর বিবৃতিতে আল– জাজিরার প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে একে লন্ডন ও অন্যান্য জায়গায় সক্রিয় উগ্রপন্থী ও তাদের সহযোগীদের উসকানিতে বেপরোয়া ও নোংরা অপপ্রচার বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে জামায়াতে ইসলামীর মদদপুষ্ট কিছু সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধী এবং কুখ্যাত ব্যক্তি তাদের চিরাচরিত ছকে যে ধরনের বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার চালায়, এ রিপোর্টও সেই শ্রেণির। এরা বিভিন্ন উগ্রপন্থী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ও সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে আল জাজিরার সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

টেস্টে মুমিনুলের রেকর্ড

নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ সচিব, হামলার শিকার এসিল্যান্ডকে