in

শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ৩ লাখ শিক্ষক

করোনায় ঘরবন্দি শিশুদের লেখাপড়া ও নিবিড় পরিচর্যা কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি যাচ্ছেন শিক্ষকরা। তারা শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিচ্ছেন ‘ওয়ার্কশিট’ (বাড়ির কাজ)। পাশাপাশি তা বুঝিয়েও দিচ্ছেন। বাবা-মায়ের সহযোগিতায় তারা সেই কাজ শেষ করে রাখছে । এভাবে সপ্তাহে একদিন গিয়ে কাজ দেওয়া হয়। আর পরের সপ্তাহে তা বুঝে নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম জানান, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে বেতার-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখা হচ্ছে। বিকল্প এ পাঠদান কার্যক্রম আরও কার্যকর করার অংশ হিসাবে এখন দেওয়া হচ্ছে ওয়ার্কশিট। স্কুল না খোলা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আর যদি বছরের শেষেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হয় তবে এ বাড়ির কাজের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের পরের শ্রেণিতে তুলে দেওয়া হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতির মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের শেখানোর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের সরাসরি শিক্ষকের সংস্পর্শে আনার এ কর্মসূচির জন্য ‘অন্তর্বর্তীকালীন পাঠপরিকল্পনা’ তৈরি করা হয়েছে। তাতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রত্যেক বিষয়ে বাড়ির কাজ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থী সংখ্যা হিসাব করে প্রত্যেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তা ফটোকপি করবেন। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক তার বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষকের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে ভাগ করে দেবেন। এরপর সপ্তাহে একদিন নিজের অধীন শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তা বুঝিয়ে দিয়ে আসবেন। পরের সপ্তাহে গিয়ে তা সংগ্রহের পাশাপাশি নতুন কাজ দিয়ে আসবেন। এভাবেই চলতে থাকবে।

বাড়ির কাজের জন্য ৯টি সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে, পাঠ্যবইয়ের প্রথম থেকে কাজের ক্রমিক অনুযায়ী আগাতে হবে। বাড়ির কাজে ৬ দিনের পাঠ থাকবে, বাকি দিন এবং জাতীয় দিবসের শিক্ষার্থী ছুটি ভোগ করবে। সাময়িক পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত দিনগুলো ‘পাঠ দিবস’ হিসাবে গণ্য হবে। ওইসব দিনে শিক্ষার্থীর কাজের পর্যালোচনা করবেন শিক্ষকেরা। শিখন ঘাটতি পূরণে আগের শ্রেণির আবশ্যকীয় শিখন বিষয়বস্ত আলাদাভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো আগে বুঝিয়ে দিয়ে এরপর পরের শ্রেণির পাঠ বোঝাতে হবে। এতে শিক্ষকের জন্য মোট ৫টি নির্দেশিকা উল্লেখ আছে।

এ পাঠ পরিকল্পনাটি তৈরি করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা আপাতত আট সপ্তাহের বাড়ির কাজ তৈরি করে দিয়েছি। শিক্ষাক্রম ও শিক্ষার্থীর শিখনফল বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যেক বিষয়ের প্রথম পৃষ্ঠা থেকেই এ বাড়ির কাজ তৈরি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গত বছর ক্লাস করতে না পারায় যে ঘাটতি আছে সেটাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, যে শিক্ষার্থীটি তৃতীয় শ্রেণিতে আছে সে গত বছর দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল। এখন তৃতীয় শ্রেণির কোনো অঙ্ক বুঝতে হলে দ্বিতীয় শ্রেণীর যে অঙ্কটি আগে করতে হতো সেটা শিক্ষক আগে বুঝিয়ে দেবেন। দ্বিতীয় সপ্তাহে শিক্ষক বাড়ির কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার সময়ে আগের পাঠটা বুঝে নেবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর একটি প্রোফাইল (পাঠ সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য) রাখবেন। যদি এ বছর আর শ্রেণির কাজ সরাসরি চালু করা না যায়, তাহলে প্রোফাইল বিবেচনা করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। অটোপাশ না দেওয়ার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে বলে জানান তিনি।

২৭ মে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) প্রকাশিত বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি (এপিএসসি) অনুযায়ী সারা দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৬ সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮০ জন। এসব বিদ্যালয় আবার একজন করে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তদারকি করেন। এসব কর্মকর্তাই উল্লিখিত বাড়ির কাজ যথাযথভাবে শিক্ষার্থীকে দেওয়া ও আদায় করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব গণমাধ্যমকে বলেন, বাড়ির কাজের এই কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজের ক্লাস্টারভুক্ত (গুচ্ছ) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এটি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। বাড়ির কাজের মাধ্যমে যাতে শিক্ষার্থীরা শিখতে পারে, সেজন্য শিক্ষকের ভূমিকা নিবিড় তদারকি করবেন তারা।

৭৮ জনের মৃত্যু

ঢাকা থেকে দূর পাল্লার বাস বন্ধ হলো আবার