বুধবার, ৬২ বৈশাখ ১৪৩২, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ শা'বান ১৪৪৭ হিজরি

প্রচ্ছদঅর্থনীতিধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, চেয়ারম্যানের দাবি বন্দর সচল

‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নেগোসিয়েশন এখনো শেষ হয়নি’

ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, চেয়ারম্যানের দাবি বন্দর সচল

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক

spot_img

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল এবং বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ চার দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটের মধ্যে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন বন্দর চেয়ারম্যান। এতে তিনি দাবি করেন, বন্দরের কার্যক্রম সচল রয়েছে।

কিন্তু পৌনে ১টায় বন্দর ভবনের বিপরীতে ৪ নম্বর জেটি গেইটে এবং বেলা ১টা ২০ মিনিটে বন্দরের এনসিটি গেইটে গিয়ে কোনো যানবাহন দেখা যায়নি।

বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা শেষ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘নেগোসিয়েশন এখনো শেষ হয়নি’।

রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘট। ফলে বন্দরে পণ্য খালাস ও বহির্নোঙরের কাজ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা হুমায়ন কবীর বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করার দাবিতে আমাদের লাগাতার ধর্মঘট চলবে।

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শ্রমিক ও কর্মচারীরা আন্দোলন ও কর্মবিরতিতে যান। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে রূপ নেয়। ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দরকে হাইজ্যাক করে জনগণকে জিম্মি করে কিছু বিপথগামী কর্মচারী ধর্মঘটের পথ বেছে নিয়েছে। আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা; আমাদের আনুগত্য থাকবে রাষ্ট্রের প্রতি। বন্দর যে আইনে চলে, সেই আইনের প্রতি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কেউ যদি বিপথগামী হয়ে অন্য কারো আনুগত্য বেছে নেয়, সেটা কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

তিনি বলেন, যারা এসব করছে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। রমজানের আগে এ ধরনের একটা কাজ করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে তারা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্দর সচল আছে। আমি ২ ঘণ্টা বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে কথা বলেছি। তারা সবাই কাজে যাবে। কেউ বাধা দিবে না।

চারদফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

এদিন সকাল থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দরের ভেতরে কাজ করা থেকে বিরত থাকে। বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায় এবং পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে পড়ে।

রোববার সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করেনি। আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন আন্দোলন দমাতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। বন্দর ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য মোতয়েন রয়েছে। সংগ্রাম পরিষদের দুজনকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম বলেন, রোববার সকাল থেকেই আমাদের ধর্মঘট চলছে, কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজে যোগ দেননি।

আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে আমাদের দুইজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়েছে বলে খবর পেয়েছি।

এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে তারা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যায়। গত মঙ্গলবার থেকে সংগ্রাম পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করে।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তার সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ দুইদিনের জন্য তাদের কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন। এরপর বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ রোববার সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন জেটিতে ১২টি জাহাজ আটকা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।

Latest articles

তৃতীয় দিনের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, মঙ্গলবার থেকে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের ডাকা তৃতীয়...

চট্টগ্রাম বন্দর অচলাবস্থা: ক্ষতি নিরূপন দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি

ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ থাকার...

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া চটগ্রাম বন্দরের ৪ কর্মচারীকে বদলি

চট্টগ্রাম বন্দরের চার কর্মচারীকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে (আইসিটি) বদলি করা...

কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনেও চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা, সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা কর্মবিরতির...

আরও পড়ুন

তৃতীয় দিনের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, মঙ্গলবার থেকে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের ডাকা তৃতীয়...

চট্টগ্রাম বন্দর অচলাবস্থা: ক্ষতি নিরূপন দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি

ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ থাকার...

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া চটগ্রাম বন্দরের ৪ কর্মচারীকে বদলি

চট্টগ্রাম বন্দরের চার কর্মচারীকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে (আইসিটি) বদলি করা...